Wednesday- September 08,2010
|
|
মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী - 2009-12-29
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রক্তক্ষয়ী এক মুক্তিযুদ্ধে এবং লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে আমাদের মহান বিজয় অর্জিত হয়েছে। এ বিজয়ের ফলে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। আমাদের দেশপ্রেমের প্রধান প্রতীক মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয়। এ বিজয়ের শক্তি নিয়ে আমরা নতুন উদ্যমে উদ্দীপ্ত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলি। মহান বিজয়ের এ মাসে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা উদযাপন করি আমাদের মহান বিজয় দিবস। এ দিবস উপলক্ষে অনেক আয়োজনের মধ্যে ‘বিজয়মেলা’ নামে এখন অনুষ্ঠিত হয় মেলা, সাংস্কৃতিক উৎসব, টেলিভিশনের বিশেষ প্রোগ্রামসহ আরো অনেক কিছু। আজ বিজয়মেলা শব্দটি তার নিজস্ব পরিচিতি পেয়েছে। বিজয়ের মাস এলেই কানে বাজে ‘বিজয়মেলা’। কিন্তু এ বিজয়মেলা শব্দ বা বিজয়মেলার পথ চলার উৎপত্তি সম্পর্কে হয়তো দেশবাসী তেমন কিছু জানে না। এটা সত্য যে, বিজয়ের মাসে বিজয়মেলার গুরুত্ব বেড়েছে। বিজয়ের উৎসবে বিজয়মেলা আজ তার স্থান করে নিয়েছে। আজ বিজয়মেলার গোড়াপত্তন বা বিজয়মেলার উৎপত্তি সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করতে চাই।
[ Post your review]
১৯৮৯ সালে ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রামের মাটি থেকে শুরু হয় বিজয়মেলা। আমি তখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। ডিসেম্বরের প্রথমদিকে প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম, বীরপ্রতীক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তৎকালীন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া আমার কাছে আসেন। যেহেতু ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সকল কর্মকাণ্ডে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম। সেই সুবাদে তারা আমার কাছে এসে আমাকে অবহিত করেন যে, তারা বিজয়মেলা করতে চান আর এ জন্য চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সামনের খালি জায়গা (বর্তমানে শিশুপার্ক) বেছে নিয়েছেন। কিন্তু ডিসি অফিস থেকে এ ব্যাপারে কোনো অনুমতি পাচ্ছেন না। সমস্যা সমাধানে তারা আমার সহযোগিতা কামনা করেন। আমি তাদের কাছ থেকে বিজয়মেলার প্রত্যয়গত ধারণা জানার পর তাদেরকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখি এ সমস্যা সমাধানের জন্য। যেহেতু সার্কিট হাউসের সামনের জায়গাটি সেনাবাহিনীর আওতাধীন, সেহেতু জেলা প্রশাসক তাদেরকে অনুমতি প্রদানের ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করেন। আমি তখন চট্টগ্রামের তৎকালীন জিওসি জেনারেল আব্দুস সালামকে (বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান) ফোন করি। বিজয়মেলা এবং এর তাৎপর্যের কথা শুনে তিনি উত্তর দেন ‘সিটি ফাদার ভালো কিছু করতে চাইলে জিওসি না করতে পারে না’ এবং তিনি আবেদন করতে বলেন। জিওসির হ্যাঁ সূচক জবাব পেয়ে বিজয়মেলা উদযাপন কমিটি গঠন এবং প্রথমবারের মতো আমাকে এ কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়। এ কমিটির সভাপতি মনোনীত হন ফারুক-ই-আজম এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া। এরপর জিওসি বরাবর অফিসিয়াল আবেদন করা হয় এবং পুলিশ কমিশনারকে মেলা উদযাপনে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমি পরামর্শ দেই। বিজয়মেলা উদযাপনের অনুমতি পাওয়ার পর মেলা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাকে জানান, এ মেলা আয়োজনের প্রয়োজনীয় অর্থ তাদের কাছে নেই। তখন আমি তাদেরকে একটি স্যুভেনির বের করার পরামর্শ দেই এবং সিটি কর্পোরেশনের ফান্ড থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ বড় অংকের অর্থ দেই। এছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে আরো কয়েকটি বিজ্ঞাপন জোগাড় করে দেই। অর্থনৈতিকভাবে সেই সময় আরো যারা আমার অনুরোধে সহায়তা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্তমান সংসদ সদস্য ও সানোয়ারা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং সাবেক স্পিকার আব্দুল মালেক উকিলের জামাতা আব্দুল্লাহ আল আহসান। এর মধ্যে একজন মঞ্চসজ্জার সকল ব্যবস্থা করেন এবং অন্যজন আপ্যায়নের দায়িত্ব নেন। বিজয় মাসে বিজয়মেলা নামক এ আয়োজন আমাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছিল। মেলা সফল করতে এবং মেলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তখন কাজীর দেউড়ি মোড়ে একটি দর্জি দোকান ভাড়া করে অস্থায়ী কার্যালয় করা হয়। আমি মেয়র এবং মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অস্থায়ী এ কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছিলাম। তখন এ বিজয়মেলা অতি আনন্দের সঙ্গে উদযাপিত হতে দেখে ভালো লাগে। এই ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক একটি প্রচলিত বাক্য উল্লেখ করতে চাই, What Chittagong thinks today the rest of Bengle thinks it tomorrow। মহাত্মা গান্ধীও চট্টগ্রামে এসে বলেছিলেন, Chitagong is to the fore। বন্দর নগরীর সীমানা পেরিয়ে বিজয়মেলা আজ সারা দেশে জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনালব্ধ এ ধরনের একটি ভিন্নধর্মী প্রয়াসের সূচনালগ্ন থেকে আমি আছি, এটি আজ আমার জন্য বড় আত্মতৃপ্তির বিষয়। বিজয়ের এ মাসে আমি আজ ফারুক-ই-আজম ও আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়ার অবদানের কথা স্মরণ করছি। [মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী : সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন] Mukto Column
|

